তাজা খবর:
সোমবার, ১৫ ফাল্গুন১৪২৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি২০১৭ সকাল ৭:৫৭

মাদ্রাসার ছাত্র মাহিমকে আগুনে পুড়ে দগ্ধ করল সুপার

MG 03

মাদ্রাসার ছাত্র মাহিমকে আগুনে পুড়ে দগ্ধ করল সুপার

মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি, বাবুগঞ্জঃ গোসল না করার অপরাধে ঠান্ডা পানিতে দাঁড় করিয়ে রাখার পর চুলার জ্বলন্ত আগুনে ছেঁকা দিয়ে পুড়ে দগ্ধ করল মাদ্রাসার শিশু শেণির ছাত্র মাহিমকে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ ডিসেম্বর বুধবার বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের চরসেলিমপুর ফজলুল উলুম সেরাতুল কুরআন মাদ্রাসায়। জানা গেছে ঐ মাদ্রাসায় গৌরনদী উপজেলার সাকোকাঠী গ্রামের নূর আলম হাওলাদারের পাঁচ বছর বয়সী পুত্র শিশু শ্রেণির ছাত্র মাহিম ঘটনার দিন গোসল না করায় সজোরে গলা চেপে ধরে মাদ্রাসার সুপার মোঃ আল-আমিন। গলা চেপে ধরায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পারার এক পর্যায়ে শিশু মাহিম পায়খানা করে দেয়। তারপর তাকে ঘাড় ধরে মাদ্রাসার পুকুরের ঠান্ডা পানিতে নিক্ষেপ করে এবং গলা অবধি পানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখে।

 

মাহিম শীতে কাঁপতে থাকলে পাষন্ড সুপার মাহিমকে বলে ‘তোর শরীরে যমের শীত আইছে, দাঁড়া তোর শরীরের শীত দূর করি।’ এসব কথা বলে সুপার মাদ্রাসার অন্য শ্রেণির ছাত্রদের নিয়ে শিশু মাহিমের হাত-পা ধরে মাদ্রাসার রান্নাঘরে জ্বলন্ত চুলার আগুনে ছেঁকা অবস্থায় পেটের এক অংশ পুড়ে দগ্ধ করে। এদিকে একই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মাহিমের মামা আরিফকে ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি প্রয়োগ করে। শিশু মাহিমের শরীরের অবস্থার অবনতি হলে নির্বোধ সুপার ঘটনার দুই দিন পর ২৫ ডিসেম্বর শুক্রবার মাহিমের পরিবারের অজান্তে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করার উদ্দেশ্যে নিয়ে গেলে বিশ্বস্ত সুত্রে মাহিমের পিতা নূর আলম হাওলাদার অসুস্থতার কথা জানতে পেরে গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হন। তারপর মাহিমের পিতা সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ছেলেকে ভর্তি করে। মাহিমের দগ্ধকৃত শরীরের ক্ষত কিছুটা উন্নত হলে চিকিৎসকরা গত ১০ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে নাম কেটে দেয়।

 

কিন্তু মাহিমের শরীরের অবস্থা এখনও ততটা ভালো নয়। শরীরের পোড়া ক্ষত এখনো শুকোয় নি। কচি শিশুটা এখনো ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। গতকাল মাহিমের সাথে কথা হলে মাহিম কেঁদে বলে, ‘ মুই আর বড় হুজুরের ধারে পড়তে যামু না। গোসল না করার পানে বড় হুজুর মোরে গলা টিপ্পা ধইরা পুহুরের হালাইয়া দিয়ে গলা পর্যন্ত পানিতে খাড়ায়া থাকতে কয়, পরে মোর হাত-পা ধইরা চুলার আগুনে ছেঁহা দেয়।’ এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সুপার বিভিন্ন মহলের যোগসাজসে মাহিমের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো অবহ্যত রাখছেন।

Comments