তাজা খবর:
সোমবার, ১৫ ফাল্গুন১৪২৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি২০১৭ সকাল ৭:৫৫

পর্ব-১ঃ রাজধানীর উত্তরায় শিক্ষা নিয়ে চলছে রমরমা বাণিজ্য ও প্রতারনা

2

পর্ব-১ঃ রাজধানীর উত্তরায় শিক্ষা নিয়ে চলছে রমরমা বাণিজ্য ও প্রতারনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শিক্ষা এখন প্রতিনিয়তই ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। কিছু অসাধু শ্রেণী এই শিক্ষাকে নিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কোচিং সেন্টারের মতো বাড়ী ভাড়া নিয়ে চলছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

রাজধানীর উত্তরায় ৯ নং সেক্টরে ফ্ল্যাট বাড়ীতে ফ্লোর ভাড়া নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে প্রতারনার মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অ্যামেরিকান স্কুল এন্ড কলেজ। উক্ত কলেজের এসএসসি’র পরিক্ষার্থী সিফাত এই প্রতিবেদককে জানায়, আমরা যারা হোস্টেলে থাকি টেস্ট পরিক্ষার আগে চেয়ারম্যান স্যার আমাদেরকে ডেকে বলেন তোমরা যারা পরিক্ষার্থী আছ তোমাদের ভাল রেজাল্ট করার জন্য প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে দিবে। না হলে আমরা তোমাদের পরিক্ষার কোন রিস্ক নিতে পারবো না। আর যারা টেস্টে ফেল করেছ তারা প্রতি সাব্জেক্টের জন্য ১০ হাজার টাকা করে দিবে। আরো কয়েকজন ছাত্র জানায়, আমরা অ্যামেরিকান স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র হলেও আমাদের পরিক্ষা দিতে হয় অন্য স্কুল এন্ড কলেজের নামে। রাসেল নামের এক ছাত্র জানায়, আমি জেএসসি পরিক্ষা শেষ করেছি, আমিসহ আরো কয়েকজন পরিক্ষার্থীর রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে নিকুঞ্জ মডেল কলেজ থেকে। আরো কয়েকজন ছাত্র জানায় আমরা পিএসসি পরিক্ষার্থী, আমাদের কয়েকজন পরিক্ষার্থীর রেজিষ্ট্রেশন নবাব হাবিবুল্লা বাহার স্কুল থেকে। হোস্টেলে থাকা কয়েকজন ছাত্র জানায়, আমরা যে হোস্টেলে থাকি এটা কোন হোস্টেলের মধ্যেই পড়ে না। নিম্ন মানের খাবার দেয়, যা হিসেব করলে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ টাকার বেশী হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ছাত্ররা প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে গুনতে হয়। পড়াশোনার কোন তাগিদ নাই। যার যেভাবে ভাল লাগে সে সেভাবে থাকে। কর্তৃপক্ষ হোস্টেলে থাকা কোন ছাত্রের ব্যাপারে খেয়াল থাকে না, তাদের চাওয়া শুধু টাকা।

1গত ২৪শে অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে জিহাদ আল মাহমুদ নামের একজন ছাত্র একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়। তার টাকার রশিদে দেখা যায়, ভর্তি ফি-৮০০০/-, লেট ফি-১০,০০০/-, সেশন ফি-৩২০০/-, টিউশন ফি-৭২০০/-, হোস্টেল ফি-৭,০০০টাকা সহ সর্বমোট ৩৫ হাজার ৪শত ৫০টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও হোস্টেলের বেহাল দশা দেখে উক্ত ছাত্র উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তি বাতিলের আবেদন জানায় এবং প্রদত্ত টাকা ফেরত দিতে বলে। কিন্তু তাকে ব্ল্যাক-মেলিং করে ঐ প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে এক প্রকার বাধ্য করার চেষ্টা করে।

বিষয়টি ৭১ সংবাদ ডট কম এর নজরে আসলে একটি অনুসন্ধানী দল উক্ত প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানে যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, উত্তরার ৯ নং সেক্টরে একটি বাড়ীতে অ্যামিরিকান স্কুল এন্ড কলেজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড দেখা যায়। ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায় বাড়ীটির ২টি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলছে। নেই কোন নির্দিষ্ট ক্লাশ রুম, নেই কোন কম্পিউটার ল্যাব, কমন রুম এবং মানসম্মত পাঠ দানের কোন ব্যবস্থা দেখা যায় নি। সকাল ১১টা থেকে একযোগে ১ম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান চলে। রয়েছে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকের অভাব। হোস্টেলের অবস্থা আবস্থা আরো আশংকা জনক, খাবারের তালিকা থাকলেও সেই অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয় না বলে জানান হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

received_1119492848158373received_1119492714825053এই বিষয়ে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শাহ ইমরান পলাশের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের সাথে চড়াও হন এবং অশালীন আচরন করেন। পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকদের সাথে না পেরে বলে আপনারা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন। কিন্তু চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষনিক পাওয়া যায় নাই। কর্তব্যরত শিক্ষক বলে স্যার বাহিরে আছেন ব্যস্ত আছেন, আপনারা পরে আসেন। মোবাইলে কথা হলে চেয়ারম্যান জানান আমি কয়েক দিন ব্যস্ত আছি আপনারা ১০ তারিখে (১০ই নভেম্বর ২০১৬) আসেন। ১০ তারিখে সময়মত আমাদের অনুসন্ধানী দল হাজির হলে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গেটের বাহিরে দাড় করিয়ে বলে স্যার ভেতরে নেই। কিন্তু কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর দেখা গেল চেয়ারম্যান ভিতরেই অবস্থান করছেন। ভিতরে প্রবেশ করলে দায়িত্বরত শিক্ষক শাহ ইমরান পলাশ আবারো অশালীন আচরন করেন।

এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান প্রফেসর ডক্টর মাহমুদুল হাসান এর সাথে দেখা মেলে। তিনিও সাংবাদিকদের উপর অনেক চড়াও হন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করতে থাকেন। আপনারা জানেন আমি কে, আমি এখন ফোন দিলে ৫০ হাজার লোক আসবে। আমি ফারইষ্ট ইন্টার ন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি’র ডিন ও নিজেকে দুদক এর সদস্য এবং দুদকের চেয়ারম্যান তার বন্ধু বলেও দাবি করেন। অথচ সাংবাদিকরা দুদকের সাবেক চেয়ারম্যানের নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি সেটা বলতে পারেন নাই। কিছুক্ষনের মধ্যে ভিপি টিপু নামের এক ব্যাক্তর নেতৃত্বে ৮-১০ জন ব্যাক্তি সন্ত্রাসী স্টাইলে এসে উপস্থিত। ভিপি টিপু বলেন, এই উত্তরা আমার কথায় চলে, এখানে থানা, পুলিশ, প্রশাসন সব আমার কথায় চলে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিও তার ভাই ব্রাদার বলে দাবি করেন। আপনি জানেন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কতো রাঘব-বোয়াল জড়িত রয়েছে? এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে কিছু লিখলে আপনাদের সমস্যা হবে। অবশেষে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা যদি আমার প্রতিষ্ঠান বা আমাকে নিয়ে কিছু লিখেন তাহলে আপনাদেরকে দেখে নেব। তার পরও মোবাইলে তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সু-স্পষ্ট বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেন।

এই বিষয়ে মতিঝিল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (ডিজি) করা হয়। বর্তমানে তার তদন্ত চলছে।

প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে ৭১ সংবাদ ডট কম এর ব্যাপক অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। ২য় পর্ব পাওয়ার জন্য সঙ্গেই থাকুন।

Comments