তাজা খবর:
বুধবার, ১১ শ্রাবণ১৪২৪, ২৫ জুলাই২০১৭ রাত ২:৩১

নড়াইলে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পে প্রশিক্ষণের নামে প্রতারণার অভিযোগ

নড়াইলে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পে প্রশিক্ষণের নামে প্রতারণার অভিযোগ

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি নড়াইল: (৯ জুলাই, ২০১৭ ইং) নড়াইলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে প্রশিক্ষণের নামে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিনামূল্যের প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং ট্রেনিংয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে জামানত এবং নানা অজুহাতে টাকা নেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে সেই টাকা ফেরত দেয়া ও সনদ বিতরণেও গড়িমসি করছেন প্রশিক্ষণের সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া স্থানীয় যুবক এম সাব্বির হোসেন। বিস্তারিত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোটের্, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ছয়টি ব্যাচে মোট ১২০ জন তরুণ-তরুণীর অধিকাংশের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ শুরুর আগেই জামানতের কথা বলে আড়াই হাজার টাকা এবং এসএসসি অথবা এইচএসসির মূল সার্টিফিকেট নেয়া হয়। সপ্তাহে ছয়টি ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও ক্লাস হয়েছে অনিয়মিত এবং প্রশিক্ষকও ছিলেন অদক্ষ। ভালো ফলাফল করলে ল্যাপটপ দেয়ার কথা বলেছিলেন সাব্বির।

কিন্তু এখন ল্যাপটপ তো দূরের কথা, জামানতের টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। প্রশিক্ষণের সনদ দেয়া হয়নি। জমাকৃত সার্টিফিকেটটি নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। ট্রেইনারদের সম্মানীও পরিশোধ করা হয়নি। অথচ বিলের টাকা তুলে নিয়েছেন তিনি। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় সারা দেশে শিক্ষিত বেকার যুবকদের আউটসোর্সিংয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ (টিটিডিসি) মিলনায়তনে প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে ছয়টি ব্যাচে ডিজিটাল মার্কেটিং এবং গ্রাফিক ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ শুরু হয়। খুলনার ক্যাপাসিটি বিল্ডিং সার্ভিস গ্রুপ অ্যান্ড ডিভাইন আইটি লিমিটেডের অধীনে নড়াইলের ই-নেশন ডট আইটি নামে একটি কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান এটি তত্ত্বাবধানের কাজ পায়। প্রশিক্ষণ শেষ হয় গত মে মাসে। গত ২০ জুন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এর সমাপনী ঘোষণা করা হয়।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অভিযোগ, এখন তাদের সনদ দেয়া হচ্ছে না। ভর্তির সময় নেয়া জামানতের টাকা ও সার্টিফিকেট নিতে গেলে নানা অজুহাতে ঘুরাচ্ছেন সাব্বির হোসেন। এখন প্রায়ই অফিস বন্ধ থাকছে। তাকে সেলফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাব্বিরের জন্ম নড়াইলের একটি গ্রামে হলেও তিনি বহুদিন ধরে জেলার বাইরে ছিলেন। দেড়-দুই বছর হলো, তিনি নড়াইলে এসে ই-নেশন ডট আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। এখন শহরেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেয়া কুড়িগ্রাম এলাকার প্রবীর সিকদার, বাবলা রায় ও কৌশিক ভট্টাচার্য্যসহ বেশ কয়েকজন জানান, ভর্তির সময় আড়াই হাজার টাকা জামানত নেয়া হয়েছিল, সেটি এখনো ফেরত দেয়া হয়নি। সার্টিফিকেট ও জামানতের টাকা ফেরত নিতে গেলে ব্যস্ততার কথা বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন অফিস বন্ধ, ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী রূপগঞ্জ এলাকার মুক্তা খানম বলেন, ভালো প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় পরে নড়াইল আইটি বিভাগে ভর্তি হয়েছি।

সাব্বির স্যার ক্লাসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভালো ফলাফল করলে প্রতি ব্যাচে একজন ছেলে এবং একজন মেয়েকে ল্যাপটপ দেয়া হবে। কিন্তু ব্যাচে আমি সবচেয়ে ভালো ফলাফল করলেও ল্যাপটপ পাইনি। অন্য ব্যাচেরও কেউ পায়নি। সাব্বির স্যার বলেছেন, পরে দেয়া হবে। এদিকে বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ প্রকল্পটিতে প্রশিক্ষণার্থীদের হালকা নাশতা দেয়ার কথাও বলা আছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, দৈনিক নাশতার জন্য মাথাপিছু ২৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রায় অর্ধেক টাকার খাবার দেয়া হতো। ট্রেনিংয়ে নাশতা সরবরাহ করতেন রহিম শেখ নামে একজন। তিনি জানান, প্রতিদিন এক কাপ লাল চা, এক পিস বিস্কুট ও ৫ টাকার একটি কেক সরবরাহ করতেন। বিল পেতেন ১২ টাকা করে। কিন্তু এক পর্যায়ে বিল না পাওয়ায় আটদিন নাশতা দিতে পারেননি। এখনো তার ৯ হাজার টাকা পাওনা। বেশ কয়েকবার অফিসে গেলে নানা কথা বলে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন সাব্বির। প্রশিক্ষণের জন্য ‘নড়াইল আইটি’ নামে একটি কম্পিউটার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন সাব্বির। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তাদের চুক্তির অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। পাওনা টাকা আনতে গেলে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। থানায় তারা অভিযোগও করেছেন। নড়াইল আইটির ট্রেইনার এইচ এম তাইফ বলেন, প্রশিক্ষণের সম্মানী বাবদ সাব্বির হোসেনের কাছে আমাদের পাওনা ৬৮ হাজার টাকা।

সর্বশেষ গত ১১ জুন দুজন ট্রেইনার টাকার জন্য গেলে সাব্বির তাদেরকে লাঞ্ছিত করেন। প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে দিয়ে বিনা পয়সায় ক্লাস করানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাপাসিটি বিল্ডিং সার্ভিস গ্রুপ অ্যান্ড ডিভাইন আইটি লিমিটেডের বিভাগীয় প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী আল আমিন শিশির প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে জামানতের টাকা বা সার্টিফিকেট নেয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আর প্রতি মাসের বিল আমরা সাব্বিরের কাছে পরিশোধ করেছি। সুতরাং প্রশিক্ষক বা নাশতা সরবরাহকারীকে টাকা না দেয়ার কোনো কারণ নেই। প্রশিক্ষণের সনদও দেয়া হয়েছে। সাব্বির যদি এমন করেই থাকে, তাহলে আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব ফেরত ও পরিশোধের ব্যবস্থা করব। আর মন্ত্রণালয় থেকে কাউকে ল্যাপটপ দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আইটি বিভাগের সহকারী কমিশনার আজিম উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল ট্রেনিংটি মনিটরিং করা। ট্রেনিংয়ের নিয়ম-কানুন সম্পর্কিত কোনো কাগজপত্র আমরা পাইনি। বিভিন্ন অনিয়ম বা প্রতারণার কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। মুখে মুখে কিছু অভিযোগ শোনা গেছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুত বিষয়টির সুরাহ হবে। এসব বিষয়ে কথা বলতে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের নড়াইল জেলা ট্রেনিং কো