শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে পত্নীতলার ঐতিহাসিক কাঞ্চনদীঘি
আর আই সবুজ, নওগাঁ প্রতিনিধি
Published : Wednesday, 18 October, 2017 at 10:10 AM

পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে পত্নীতলার ঐতিহাসিক কাঞ্চনদীঘিনওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহাসিক অন্যতম একটি হল কাঞ্চনদীঘি। কাঞ্চনদীঘি পত্নীতলার নজিপুর শহর হতে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এই দীঘিকে অনেকে কাঞ্চনদীঘি না বলে হয়রত জহরউদ্দীন চিশতী (রা:) মাজর বা দীঘি বলে থাকেন। দীঘিটি গোলাকার, তবে বিশেষভাবে লক্ষ্য করলে উওর দক্ষিণে কিঞ্চিৎ লম্বা বলেও মনে হয়। 

দীঘিটির উওর পূর্ব পাড়ে ও দক্ষিণ পাড়ে দুইটি গ্রামে জনবসতি রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ বসবাসকারীই হল মুসলমান ও অল্প সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এ দুটি গ্রামের নাম যথাক্রমে বাদ- পুঁইয়া ও কাঞ্চন। বস্তুত: দীঘিটি বাদ- পুঁইয়া ও কাঞ্চন দুটি মৌজার সংযোগ স্থলের মধ্যে অবস্থিত। উওর ভাগ হলো বাদ-পুঁইয়া মৌজা ও দক্ষিণ ভাগ হলো কাঞ্চন মৌজা। 

দীঘিটির পশ্চিম পাড়ে সুশীতল বট বৃক্ষের ছায়া তলে পীর জহরউদ্দীন চিশতী (রা:)’র পবিত্র মাজার শরীফ পর্যটক ও ভক্তদেও নয়ন মনকে আকর্ষণ করে। চতুস্পার্শে সুউচ্চ ইস্টক বেদীর ভিতরে সিমেন্ট বাঁধানো পীর সাহেবের প্রাচীন মাজার শরীফ। অধুনা বেদীগুলোর কোন কোন অংশ যত্নাভাবে নষ্ট হয়ে থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় দীঘিটিসহ পীর সাহেবের মাজার পুনঃমেরামত করা হয়। 

এতে দীঘিটি বর্তমানে দেখতে অতীব সুন্দও হয়েছে। স্বচ্ছ সলিলা গোলাকৃতি কাঞ্চন দীঘিটি পীর জহরউদ্দীনের দীঘি, দক্ষিণ দেশীয় সারোদা গোঁশায় নামে জনৈক বৈষ্ণব প্রচারক খনন করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পরর্বতীতে ঘটনাক্রমে দীঘিটি পীর জহরউদ্দীনের আওতাধীন হয় ও জহরউদ্দীনের দীঘি বলে থ্যাত হয়। 

দীঘির চতুর্দিকে ভ্রমণ করে দেখলে মনে হবে যে, কোন কালে স্থানটি এক গভীর অরণ্যে মধ্যে বির্স্তৃণ প্রান্তর ছিল। দীঘির দক্ষিণ পূর্ব কোন দিক হতে নিকটস্থ আত্রাই নদী পর্যন্ত একটি সংকীর্ণ খালের বা নালার নিশানা আজও দেখতে পাওয়া যায়। লোকে বলে এটা জহরউদ্দীনের দাঁড়া। এই দাঁড়াটি পীর সাহেবের এক অলৌকিক ক্ষমতার পরিচায়ক। দক্ষিণ পূর্ব কোন দেশে কাঞ্চন দীঘির মঠ বা সমাধি এবং তৎসংলগ্ন একটি ঢিপিকে গোঁস্বামীর ঢিপি বা ঢিপিরী বলা হয়। 

এই মঠ ও ঢিপরীও নাকি পীর সাহেবের অলৌকিক নিশানা। প্রায় কয়েক যুগ আগে বৎসরের একটি বিশেষ দিনে এই মঠ ও ঢিপরীর উপরে তেল, সিন্দুরাদি ও ধুপ দিয়া হিন্দুরা ঢাক, ঢোল পিটিয়া যেত যা আজ আর হয় না। বসরের একটি বিশেষ দিনে উক্ত মাজার শরীফ এলাকায় ওয়াজ মাহফিল ও ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজার হাজার ধর্ম প্রাণ মানুষ শরীক হন। 

পীর জহরউদ্দীন চিশতী (রা:) ছিলেন একজন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তার অলৌকিক জনশ্রুতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উদাহরণ হলো- এক সময় স্থানীয় হিন্দু মুসলমান বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান সমাপনে বাসনগুলো পুনরায় দীঘিতে ডুবিয়ে দিতে হত কিন্তু এক সময়ে বাসন ডুবানোর সময় একটি বাসন কমতি হওয়াই স্থানীয় লোকজন সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। এ সব কাহিনীর অনেক ক্ষেত্রে কিংবদন্তীর মতো শোনালেও ক্ষেত্র বিশেষ ইতিহাসে তা অস্বীকার করে যেতে পারে না।
৭১সংবাদ ডট কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


সর্বশেষ সংবাদ
ঠাকুরগাঁওয়ের ভেলাজানে সংঘর্ষে ১ জন নিহত আহত ১ জন
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট: জাকির হোসাইন
এসপি হলেন ৯৬ পুলিশ কর্মকর্তা
বেলুচিস্তানেও বাংলাদেশের ৭১-এর মতো ধর্ষণ করছে পাকিস্তানি সেনারা!
অ্যাশেজ: মালানের শতকে প্রথম দিনটি ইংল্যান্ডের
মধ্যপাড়া কঠিন শিলায় ৪৫ জন খনি শ্রমিক পুরস্কৃত
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে বেরোবিতে নীলদলের মানববন্ধন
‘টি-টেন’ টুর্নামেন্টের সময়সূচি
জাল টাকার জলছাপ রসিদে মাহফিলের অনুদান আদায় হচ্ছে
ফেঁসে গেলেন মোস্তাফিজ
রাজা বাদশাহর বিয়েকে হার মানিয়েছে বিরুষ্কা!
হঠাৎ গ্রেফতার হলে করনীয়?
ডিএমপির নতুন গোয়েন্দা প্রধান দেবদাস
Chief Advisor: A K M Mozammel Houqe MP
Minister, Ministry of Liberation War Affairs, Government of the People's Republic Bangladesh.
Editor & Publisher: A H M Tarek Chowdhury
Sub-Editor: S N Yousuf
Chief Reporter: Nazmul Hasan Babu
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ৭১সংবাদ, ২০১৭
প্রধান কার্যালয় : ৫৩, মডার্ন ম্যানশন (১৪তলা), মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০
বার্তাকক্ষ : +৮৮-০২-৯৫৭৩১৭১, ০১৬৭৭-২১৯৮৮০, ০১৬২২-৩৩৩৭০৭, ০১৮৫৫-৫২৫৫৩৫, ই-মেইল :71sangbad@gmail.com, news71sangbad@gmail.com, Web : www.71sangbad.com