প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম (ভিজিট : ৯১)

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমিরের সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার স্থলে নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, তিনি ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পদায়নের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মাহমুদুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার বিস্তৃত পেশাগত নেটওয়ার্ক ও কূটনৈতিক দক্ষতা রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পদায়ন করা হলে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারিভাবে উপস্থাপন ও পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর নীতিনির্ধারণেও তা সহায়ক হতে পারে।
গতকাল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে বলা হয়- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমিরকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। বিশেষ করে চিঠিতে ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ সংক্রান্ত দাবির ব্যাপারে তার কোনো সম্মতি ছিল না। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দলটির পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে এবং নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টিও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতি অনুসরণ করা হয় এবং এই ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় নেতার পাঠানো ওই চিঠির বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।